মফস্বল সংবাদ  

অযৌক্তিক সুদের ভারে নিঃস্ব বৃহত্তর নোয়াখালীর কয়েক হাজার পরিবার

নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম-গঞ্জে বিভিন্ন এনজিওর বিতরণকৃত ঋণের অতিরিক্ত সুধের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার ঋণ গ্রহীতা। এনজিও কর্মকর্তা এবং কর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক হাজার পরিবার বাড়ি ভিটে-মাটি, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে। সে সঙ্গে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় শতশত ব্যক্তি নিরুদ্দেশ হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের কোন নজরদারী নেই। নোয়াখালীর অনেক গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণব্যাংক, ইএসডিও, আরডিআরএস সহ বিভিন্ন এনজিও গ্রামের খেটে খাওয়া দিন মজুর, কৃষক, বেকার যুকক-যুবতীকে কোন প্রকার খোঁজ-খবর না নিয়েই চড়া সুদে ঋণ দিচ্ছে। এমনকি একই পরিবার ৪/৫টি এনজিও থেকে ঋণের টাকা নিচ্ছে আর এ টাকার কিস্তি প্রতিসপ্তাহে পরিশোধ করতে না পেরে অনেকে জমি-জমা, বসত-ভিটা, হালের গুরু, স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। কেউবা এনজিওর অত্যাচারে রাতের অন্ধকারে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার অনেকে ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে এলাকা ছেড়েছে। ঋণ খেলাপি ওদুদ জানান, আমি চারটি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি, আর এই ঋণের প্রায় সব টাকা পরিশোধ করলেও অতিরিক্ত সুদের টাকার কারণে ঋণ পরিশোধ করতে হিমসিম খাচ্ছি। কোন কারণে ২/১ সপ্তাহ কিস্তির টাকা দিতে না পারলে এনজিওর কর্মী ও কর্মকর্তারা ১০/১২ জন ঝাঁক বেঁধে বাসায় এসে জুলুম অত্যাচার চালায়। এমনকি টাকা দিতে না পারলে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। তারপরও কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে উকিল নোটিশ দিয়ে মামলা মোকদ্দমার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন এনজিওর কর্মীর সাথে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঋণ বিতরণ ও আদায় করতে না পারলে চাকরি থাকবে না। তাই যে কোন উপায়ে টার্র্র্গেট অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে হবে। আবার ঐ ঋণের টাকা প্রতি সপ্তাহে ঠিকমতো আদায় না করতে পারলে আমাদের মাসিক বেতন থেকে কেটে নেয়া হয়। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাদেরকে বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ করে ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করার চেষ্টা করে থাকি। এতে অনেকে বিরক্ত মনে করেন। তাতে আমাদের অপরাধ কি।
     
lbheading